WB Board is conducting the Class 12 Journalism & Mass Communication Board Exam 2026 on February 19, 2026. Class 12 Journalism & Mass Communication Question Paper with Solution PDF is available here for download.

The official question paper of WB Board Class 12 Journalism & Mass Communication Board Exam 2026 is provided below. Students can download the official paper in PDF format for reference.

WB Board Class 12 2026 Journalism & Mass Communication Question Paper with Solution PDF

WB Board Class 12 2026 Journalism & Mass Communication Question Paper with Solution PDF Download PDF Check Solutions

Question 1:

সংবাদপত্রে সম্পাদনা বলতে কী বোঝায়? একজন সহ-সম্পাদকের (Sub-editor) প্রধান কাজগুলি আলোচনা করো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
সংবাদপত্রে সম্পাদনা (Editing) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সংবাদ, প্রতিবেদন বা লেখা প্রকাশের আগে তা যাচাই, সংশোধন, পরিমার্জন ও উপস্থাপনযোগ্য করা হয়।
এতে ভাষা, তথ্য, শিরোনাম, বিন্যাস এবং পাঠযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়।
সম্পাদনার মাধ্যমে একটি কাঁচা সংবাদকে পাঠকের জন্য গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় রূপ দেওয়া হয়।

সংবাদপত্রে সম্পাদনার অর্থ:
সংবাদ সংগ্রহের পর সেটিকে প্রকাশযোগ্য করতে যে বাছাই, সংশোধন, সংক্ষিপ্তকরণ, ভাষাগত শুদ্ধি ও উপস্থাপনার কাজ করা হয় তাকে সম্পাদনা বলা হয়।
এটি সংবাদপত্রের গুণমান, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নান্দনিকতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সহ-সম্পাদকের (Sub-editor) প্রধান কাজসমূহ:

1. সংবাদ সম্পাদনা ও ভাষা শুদ্ধকরণ:
সংবাদে বানান, ব্যাকরণ, বাক্যগঠন ও ভাষার শুদ্ধতা নিশ্চিত করা সহ-সম্পাদকের অন্যতম প্রধান কাজ।

2. তথ্য যাচাই (Fact-checking):
সংবাদের তথ্য, নাম, সংখ্যা, তারিখ ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করে ভুল সংশোধন করা।

3. শিরোনাম তৈরি:
সংবাদের মূল ভাব বজায় রেখে আকর্ষণীয়, সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ শিরোনাম তৈরি করা।

4. সংক্ষিপ্তকরণ ও পুনর্লিখন:
অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে সংবাদকে সংক্ষিপ্ত ও পাঠযোগ্য করা এবং প্রয়োজনে পুনর্লিখন করা।

5. বিন্যাস ও উপস্থাপনা:
সংবাদ কোথায় এবং কীভাবে পৃষ্ঠায় বসানো হবে তা নির্ধারণ করা, অর্থাৎ লেআউট ও প্রেজেন্টেশন ঠিক করা।

6. ক্যাপশন ও উপশিরোনাম লেখা:
ছবির জন্য উপযুক্ত ক্যাপশন এবং বড় প্রতিবেদনের জন্য উপশিরোনাম তৈরি করা।

7. আইন ও নীতিমালা মানা:
সংবাদ যেন মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর বা আইনবিরোধী না হয় তা নিশ্চিত করা।

8. সময় ব্যবস্থাপনা:
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্পাদনা করে প্রকাশ নিশ্চিত করা (ডেডলাইন মেনে কাজ করা)।


% Conclusion
উপসংহার:
সংবাদপত্রে সম্পাদনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা সংবাদকে নির্ভুল, সুসংগঠিত ও আকর্ষণীয় করে তোলে। একজন সহ-সম্পাদক সংবাদপত্রের মান রক্ষা ও পাঠকের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। Quick Tip: পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্নে সংজ্ঞা + কাজের তালিকা + সংক্ষিপ্ত উপসংহার লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ হয়।


Question 2:

সংবাদের ‘লিড’ বা ‘ইনট্রো’ কাকে বলে? একটি ভালো লিড-এর বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?

Correct Answer:
View Solution

Concept:
সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে ‘লিড’ বা ‘ইনট্রো’ হলো প্রতিবেদনের প্রথম অংশ বা সূচনা অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।
এটি পাঠককে পুরো সংবাদ পড়তে আগ্রহী করে এবং সংবাদের মূল বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা দেয়।

লিড বা ইনট্রোর সংজ্ঞা:
সংবাদের প্রথম বাক্য বা অনুচ্ছেদ, যেখানে ৫টি W (Who, What, When, Where, Why) এবং ১টি H (How)-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর সারাংশ উপস্থাপন করা হয়, তাকে লিড বা ইনট্রো বলা হয়।
এটি পুরো প্রতিবেদনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

একটি ভালো লিড-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

1. সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট:
লিড ছোট ও সরল হওয়া উচিত, যাতে পাঠক দ্রুত মূল বিষয় বুঝতে পারে।

2. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ:
সংবাদের সবচেয়ে জরুরি তথ্য (মূল ঘটনা) লিডে থাকতে হবে।

3. আকর্ষণীয়:
পাঠকের আগ্রহ জাগায় এমনভাবে লেখা হওয়া উচিত, যাতে পাঠক পুরো সংবাদ পড়তে আগ্রহী হয়।

4. বস্তুনিষ্ঠ:
লিডে ব্যক্তিগত মতামত বা আবেগ নয়, নিরপেক্ষ তথ্য থাকতে হবে।

5. প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা:
লিড যেন সংবাদের মূল বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হয়।

6. সহজ ভাষা ব্যবহার:
জটিল শব্দ বা দীর্ঘ বাক্য পরিহার করে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা উচিত।

7. সম্পূর্ণতা:
যতটা সম্ভব 5W1H-এর প্রধান উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকলে লিড আরও শক্তিশালী হয়।

8. বিভ্রান্তিমুক্ত:
দ্ব্যর্থক বা অস্পষ্ট তথ্য এড়িয়ে পরিষ্কার ও নির্ভুল তথ্য দিতে হবে।


% Conclusion
উপসংহার:
লিড হলো সংবাদের প্রাণ। একটি শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় লিড পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখে এবং পুরো প্রতিবেদনের মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। Quick Tip: লিড মনে রাখার সহজ কৌশল: “Short + Important + Interesting + Objective” — এই চারটি গুণ থাকলে ভালো লিড লেখা যায়।


Question 3:

সংবাদ মূল্যের প্রধান উপাদানগুলি কী কী? কোনো ঘটনা কখন সংবাদে পরিণত হয়?

Correct Answer:
View Solution

Concept:
সংবাদ মূল্য (News Value) বলতে বোঝায় কোনো ঘটনার সেই বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি, যার কারণে সেটি সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব ঘটনা সংবাদ হয় না; যেসব ঘটনার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব, প্রভাব বা আগ্রহের উপাদান থাকে, সেগুলোই সংবাদে পরিণত হয়।

সংবাদ মূল্যের প্রধান উপাদানসমূহ:

1. সময়োপযোগিতা (Timeliness):
নতুন বা সাম্প্রতিক ঘটনা বেশি সংবাদযোগ্য। পুরোনো তথ্য সাধারণত সংবাদ মূল্য হারায়।

2. গুরুত্ব বা প্রভাব (Importance/Impact):
যে ঘটনা অনেক মানুষের জীবন, সমাজ বা রাষ্ট্রে প্রভাব ফেলে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হয়।

3. নিকটতা (Proximity):
পাঠকের ভৌগোলিক বা মানসিকভাবে কাছাকাছি ঘটনার প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে।

4. বিশিষ্টতা (Prominence):
বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা বেশি সংবাদযোগ্য।

5. ব্যতিক্রমধর্মিতা (Oddity/Unusualness):
অস্বাভাবিক বা বিরল ঘটনা মানুষের কৌতূহল বাড়ায়, তাই এগুলোর সংবাদ মূল্য বেশি।

6. সংঘর্ষ বা দ্বন্দ্ব (Conflict):
রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সংবাদকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

7. মানবিক আবেদন (Human Interest):
যেসব ঘটনায় আবেগ, সহানুভূতি বা মানবিক দিক থাকে তা পাঠকের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

8. উন্নয়ন ও অগ্রগতি (Development/Progress):
নতুন আবিষ্কার, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বা উন্নয়নমূলক কাজও সংবাদ মূল্য বহন করে।

9. ফলাফল বা পরিণতি (Consequence):
যে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে তা বেশি সংবাদযোগ্য হয়।


কোনো ঘটনা কখন সংবাদে পরিণত হয়?

কোনো ঘটনা তখনই সংবাদে পরিণত হয় যখন:

ঘটনাটি নতুন ও সময়োপযোগী হয়,
সমাজ বা মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে,
মানুষের আগ্রহ বা কৌতূহল সৃষ্টি করে,
তথ্যটি সত্য ও যাচাইযোগ্য হয়,
এবং গণমাধ্যমের জন্য প্রাসঙ্গিক ও প্রকাশযোগ্য হয়।


অর্থাৎ, যখন কোনো ঘটনার মধ্যে পর্যাপ্ত সংবাদ মূল্য থাকে এবং তা জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তখনই সেটি সংবাদে রূপ নেয়।


% Conclusion
উপসংহার:
সংবাদ মূল্য নির্ধারণ করে কোন ঘটনা প্রকাশ পাবে আর কোনটি নয়। একজন সাংবাদিক বা সম্পাদক সংবাদ মূল্য বিচার করেই গুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে সংবাদ হিসেবে নির্বাচন করেন। Quick Tip: সংবাদ মূল্য মনে রাখার সহজ সূত্র: “নতুন + গুরুত্বপূর্ণ + আকর্ষণীয় + প্রভাবশালী = সংবাদযোগ্য ঘটনা”


Question 4:

শ্রেণীবদ্ধ (Classified) এবং প্রদর্শনী (Display) বিজ্ঞাপনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন সাধারণত দুই ধরনের হয়—শ্রেণীবদ্ধ (Classified) ও প্রদর্শনী (Display)।
এদের গঠন, আকার, খরচ, উপস্থাপন ও উদ্দেশ্যের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

শ্রেণীবদ্ধ ও প্রদর্শনী বিজ্ঞাপনের পার্থক্য:


\begin{tabular{|p{4cm|p{5cm|p{5cm|
\hline
বিষয় & শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন (Classified) & প্রদর্শনী বিজ্ঞাপন (Display)

\hline
সংজ্ঞা & ছোট আকারের, নির্দিষ্ট শ্রেণীতে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন & বড় আকারের, নকশাযুক্ত ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন

\hline
আকার & ছোট ও সীমিত জায়গা দখল করে & বড় আকারের, পুরো বা আংশিক পৃষ্ঠা জুড়ে হতে পারে

\hline
উপস্থাপনা & সাধারণ টেক্সটভিত্তিক, ছবি বা ডিজাইন কম & রঙিন, গ্রাফিক্স, ছবি ও ডিজাইন সমৃদ্ধ

\hline
খরচ & তুলনামূলক কম খরচে প্রকাশিত হয় & বেশি খরচসাপেক্ষ

\hline
বিন্যাস & নির্দিষ্ট বিভাগে (যেমন চাকরি, বাড়ি ভাড়া) সাজানো থাকে & পৃষ্ঠার যেকোনো স্থানে আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশিত হয়

\hline
উদ্দেশ্য & তথ্য জানানো বা ছোট বিজ্ঞপ্তি দেওয়া & ব্র্যান্ড প্রচার, পণ্য বিপণন ও নজর কাড়া

\hline
উদাহরণ & চাকরির বিজ্ঞাপন, বাড়ি ভাড়া, হারানো বিজ্ঞপ্তি & কোম্পানির পণ্য প্রচার, উৎসব অফার, কর্পোরেট বিজ্ঞাপন

\hline
\end{tabular



সংক্ষেপে পার্থক্য:
শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন ছোট, সাদামাটা ও তথ্যভিত্তিক; অন্যদিকে প্রদর্শনী বিজ্ঞাপন বড়, দৃষ্টিনন্দন ও বাণিজ্যিকভাবে বেশি প্রভাবশালী।


% Conclusion
উপসংহার:
সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় উভয় ধরনের বিজ্ঞাপনই গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপন তথ্যভিত্তিক ও সাশ্রয়ী, আর প্রদর্শনী বিজ্ঞাপন ব্র্যান্ডিং ও প্রচারের জন্য কার্যকর। Quick Tip: মনে রাখার সহজ উপায়: Classified = ছোট + সস্তা + টেক্সট Display = বড় + আকর্ষণীয় + ব্যয়বহুল


Question 5:

জনসংযোগ আধিকারিকের (PRO) ভূমিকা ও দায়িত্বগুলি আলোচনা করো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
জনসংযোগ আধিকারিক (Public Relations Officer বা PRO) হলেন এমন একজন পেশাজীবী যিনি কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা ব্যক্তির সঙ্গে জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের সুসম্পর্ক বজায় রাখেন।
তিনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি গঠন, তথ্য প্রচার এবং জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জনসংযোগ আধিকারিকের ভূমিকা:

1. প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র:
PRO প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন এবং প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য দেন।

2. ভাবমূর্তি নির্মাণ (Image Building):
প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি ও বজায় রাখা PRO-এর প্রধান ভূমিকা।

3. যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা:
গণমাধ্যম, গ্রাহক, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা।

4. সংকট মোকাবিলা (Crisis Management):
কোনো বিতর্ক বা সংকটের সময় সঠিক তথ্য প্রদান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা।


জনসংযোগ আধিকারিকের প্রধান দায়িত্বসমূহ:

1. সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করা:
প্রেস রিলিজ, বিবৃতি ও অফিসিয়াল ঘোষণাপত্র তৈরি করা এবং মিডিয়ায় পাঠানো।

2. গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা:
সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা।

3. অনুষ্ঠান পরিচালনা:
প্রেস কনফারেন্স, সেমিনার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ইত্যাদি আয়োজন ও সমন্বয় করা।

4. তথ্য সরবরাহ ও প্রচার:
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

5. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা:
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ও ইমেজ বজায় রাখা।

6. প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ:
জনমত ও প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে তা কর্তৃপক্ষকে জানানো।

7. প্রতিবেদন প্রস্তুত:
জনসংযোগ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ফলাফল নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা।

8. নৈতিকতা বজায় রাখা:
তথ্য প্রদানে সততা, স্বচ্ছতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা।


% Conclusion
উপসংহার:
জনসংযোগ আধিকারিক কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষ PRO প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলে এবং জনসাধারণের সঙ্গে স্থায়ী আস্থা তৈরি করতে সাহায্য করে। Quick Tip: পরীক্ষায় PRO মনে রাখার সূত্র: “Communication + Image + Media + Crisis = PRO-এর মূল কাজ”


Question 6:

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দাদাসাহেব ফালকের অবদান আলোচনা করো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
দাদাসাহেব ফালকে (Dadasaheb Phalke) ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক (Father of Indian Cinema) হিসেবে পরিচিত।
তিনি ভারতে চলচ্চিত্র নির্মাণের পথিকৃৎ এবং প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ভারতীয় ফিচার ফিল্ম নির্মাণের মাধ্যমে একটি নতুন শিল্পমাধ্যমের সূচনা করেন।

দাদাসাহেব ফালকের পরিচিতি:
দাদাসাহেব ফালকের আসল নাম ধুন্দিরাজ গোবিন্দ ফালকে। তিনি ছিলেন একজন শিল্পী, আলোকচিত্রী, প্রিন্টার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায় ভারতীয় সিনেমার ভিত্তি গড়ে তোলে।


ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর প্রধান অবদানসমূহ:

1. প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণ:
১৯১৩ সালে তিনি \textit{রাজা হরিশচন্দ্র নির্মাণ করেন, যা ভারতের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য নীরব চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত।
এটি ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সূচনা চিহ্নিত করে।

2. দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি স্থাপন:
বিদেশি চলচ্চিত্রের প্রভাবের মধ্যে থেকেও তিনি দেশীয় গল্প, পুরাণ ও সংস্কৃতিকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরেন।

3. প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন:
ক্যামেরা, সেট ডিজাইন, মেকআপ, বিশেষ প্রভাব ইত্যাদি ক্ষেত্রে তিনি নিজেই নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেন।

4. বহুমুখী প্রতিভা:
তিনি শুধু পরিচালকই নন; প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদক ও শিল্প নির্দেশক হিসেবেও কাজ করেছেন।

5. পৌরাণিক কাহিনির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি:
রামায়ণ-মহাভারত ও পুরাণের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে ভারতীয় দর্শকের কাছে সিনেমাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলেন।

6. চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা:
চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদন নয়, একটি স্বতন্ত্র শিল্পমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর অবদান অসামান্য।

7. পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা:
তাঁর কাজ ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে এবং নতুন প্রজন্মকে চলচ্চিত্রে আসতে অনুপ্রাণিত করে।

8. দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার:
ভারত সরকার তাঁর স্মৃতিতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছে।


% Conclusion
উপসংহার:
দাদাসাহেব ফালকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর দূরদৃষ্টি, সৃজনশীলতা ও অদম্য পরিশ্রম ভারতীয় সিনেমাকে একটি শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করেছে। তাই তাঁকে যথার্থভাবেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনক বলা হয়। Quick Tip: মনে রাখার সূত্র: 1913 + রাজা হরিশচন্দ্র + Father of Indian Cinema = দাদাসাহেব ফালকে


Question 7:

সত্যজিৎ রায় বা ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
ভারতীয় তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক দুইজনই অনন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা।
তাঁদের চলচ্চিত্র বাস্তবধর্মিতা, মানবিকতা ও সামাজিক চেতনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।


(ক) সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্য:

1. বাস্তবধর্মিতা (Realism):
তাঁর চলচ্চিত্রে জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে, যেমন \textit{পথের পাঁচালী তে গ্রামীণ জীবনের সরল উপস্থাপনা।

2. মানবিকতা ও সংবেদনশীলতা:
মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে তুলে ধরা তাঁর চলচ্চিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

3. সরল ও সাবলীল কাহিনি:
অতিরঞ্জন ছাড়া স্বাভাবিক গল্প বলার ভঙ্গি তাঁর সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মান দেয়।

4. চিত্রভাষার নান্দনিকতা:
ক্যামেরা, আলো-ছায়া ও ফ্রেমের ব্যবহার অত্যন্ত পরিশীলিত ও শিল্পসম্মত।

5. সঙ্গীত ও নীরবতার ব্যবহার:
তিনি নিজেই অনেক ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এবং নীরবতার সৃজনশীল ব্যবহার করেছেন।

6. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
তাঁর চলচ্চিত্র বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত এবং বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।


(খ) ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্য:

1. সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনা:
দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা ও সমাজের সংকট তাঁর চলচ্চিত্রের মূল বিষয়।

2. আবেগের তীব্রতা:
তাঁর ছবিতে তীব্র আবেগ ও নাটকীয়তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

3. প্রতীক ও রূপকের ব্যবহার:
প্রতীকধর্মী দৃশ্য ও রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে গভীর অর্থ প্রকাশ করেছেন।

4. পরীক্ষামূলক নির্মাণশৈলী:
সম্পাদনা, শব্দ ও দৃশ্য বিন্যাসে নতুনত্ব ও ভাঙাগড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

5. সংগীত ও শব্দের নাটকীয় ব্যবহার:
লোকসঙ্গীত ও তীব্র শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন।

6. বাস্তবতার সঙ্গে নাটকীয়তার মেলবন্ধন:
বাস্তব ঘটনা ও নাটকীয় উপস্থাপনার সংমিশ্রণ তাঁর চলচ্চিত্রকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।


% Conclusion
উপসংহার:
সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক দুজনেই ভারতীয় চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছেন।
রায়ের চলচ্চিত্র মানবিক ও নান্দনিক বাস্তবতার প্রতীক, আর ঘটকের চলচ্চিত্র সামাজিক বেদনা ও তীব্র আবেগের শক্তিশালী প্রকাশ। Quick Tip: মনে রাখার সহজ পার্থক্য: Ray = Realism + Humanism Ghatak = Emotion + Partition Reality


Question 8:

তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি ফিল্মের গুরুত্ব ও উদ্দেশ্য আলোচনা করো।

Correct Answer:
View Solution

Concept:
তথ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারি ফিল্ম হলো এমন এক ধরনের চলচ্চিত্র, যেখানে বাস্তব ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ বা বিষয়কে তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
এটি বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


তথ্যচিত্রের গুরুত্ব:

1. বাস্তবতার প্রতিফলন:
ডকুমেন্টারি বাস্তব ঘটনা ও সত্যকে তুলে ধরে, যা দর্শককে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করে।

2. শিক্ষামূলক ভূমিকা:
ইতিহাস, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধিতে তথ্যচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

3. সচেতনতা সৃষ্টি:
সামাজিক সমস্যা (দারিদ্র্য, দূষণ, নারী নির্যাতন) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায়।

4. ইতিহাস সংরক্ষণ:
সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ব্যক্তিত্বকে সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দলিল হিসেবে কাজ করে।

5. সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম:
জনমত গঠন ও সামাজিক আন্দোলনে ডকুমেন্টারি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

6. তথ্যের বিশ্বস্ততা:
কল্পনার বদলে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হওয়ায় এটি অধিক বিশ্বাসযোগ্য।


তথ্যচিত্রের উদ্দেশ্য:

1. তথ্য প্রদান:
দর্শকদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পৌঁছে দেওয়া।

2. শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তার:
বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত ও সচেতন করা।

3. বাস্তবতা তুলে ধরা:
সমাজের অজানা বা উপেক্ষিত দিকগুলো সামনে আনা।

4. জনমত গঠন:
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত তৈরি ও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা।

5. অনুপ্রেরণা প্রদান:
সফল ব্যক্তি বা ইতিবাচক উদ্যোগের গল্প তুলে ধরে মানুষকে অনুপ্রাণিত করা।

6. নীতিনির্ধারণে সহায়তা:
সরকার বা সংস্থাকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা।


% Conclusion
উপসংহার:
তথ্যচিত্র শুধু বিনোদন নয়, এটি শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম। বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে সমাজকে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তুলতে ডকুমেন্টারি ফিল্মের গুরুত্ব অপরিসীম। Quick Tip: মনে রাখার সূত্র: Documentary = Reality + Education + Awareness + Social Impact

 

WB Board 2026 Class 12 Preparation